আগরতলা বিমানবন্দর ও প্রান্তিক ক্লাবের সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, বাইক র্যালি ও বিজয় উৎসবের দৃশ্য; উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব ও হাজারো সমর্থক।
আগরতলাঃ ০৫/০৫/২০২৬- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহ ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায় দেখা গেল ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদযাপন। মঙ্গলবার সকাল থেকে আগরতলা বিমানবন্দর ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, স্লোগান, মিছিল ও বাইক র্যালিতে কার্যত উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
রাজনৈতিক মহল ও দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ফলাফলের পর রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সহ-প্রভারী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ Biplab Kumar Deb মঙ্গলবার ত্রিপুরায় আগমন করলে আগরতলা বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয় বিশাল জনসমাগম। সকাল থেকেই শত শত কর্মী-সমর্থক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন। “বিপ্লব দেব জিন্দাবাদ”, “বিজেপি জিন্দাবাদ”—এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিমানবন্দর চত্বরে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা ফুলের মালা, পতাকা ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পরিবেশ পুরোপুরি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পরে তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হলে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে স্লোগান ও করতালি।

রপর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ বাইক র্যালি করে আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন। শত শত বাইকের শোভাযাত্রা, দলীয় পতাকা ও স্লোগানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কার্যত উৎসবের রূপ নেয়।
দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বিপ্লব কুমার দেবের কৌশলগত দিকনির্দেশনার। সমর্থকদের একাংশের মতে, ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় যেমন বড় ভূমিকা ছিল তাঁর, তেমনি পশ্চিমবঙ্গেও দলের অবস্থান শক্ত করতে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
একই দিনে আগরতলা শহরের প্রান্তিক ক্লাব এলাকায় ৯-বনমালীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি মন্ডলের উদ্যোগে আরেকটি বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি Rajib Bhattacharjee।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। রাজীব ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ও গোমতী জেলার উদয়পুরের বিখ্যাত মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের পেঁড়া খেয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। মুহূর্তটি কার্যত এক আনন্দ-সমাবেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৯-বনমালীপুর বিজেপি মন্ডলের সভাপতি, মন্ডল সদস্য দিব্যেন্দু দত্ত সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কার্যকর্তারা। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল স্লোগান, করতালি এবং দলীয় পতাকা হাতে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
পুরো দিনজুড়ে আগরতলায় বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মিছিল, মিষ্টি বিতরণ, বাইক র্যালি ও বিজয় উৎসবের কারণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেশী রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি ত্রিপুরার রাজনৈতিক কর্মীদের আবেগ ও উদ্দীপনার প্রতিফলন।
রিপোর্ট: বিকাশ দাস
Editor, Prime 24 Tripura
editor@prime24tripura.com
