
২৭ বছরের সংসার ভাঙনের মুখে, স্ত্রী ও পুত্রের ফিরে আসার আবেদন জানিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি সনজিৎ সরকার।
আমতলী, বুধবার (১৭ জুন): পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমান এবং পারিবারিক অশান্তি কখনও কখনও একটি সুন্দর সংসারকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দেয়। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী আমতলী থানার অন্তর্গত মধুবন রিসেটলমেন্ট কলোনির বাসিন্দা সনজিৎ সরকার।
পেশায় দিনমজুর সনজিৎ সরকার দীর্ঘ ২৭ বছর আগে সামাজিক রীতিনীতি মেনে টিংকু সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে কন্যার বিয়ে হয়ে গেলেও ছেলে স্বপন সরকার বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।
সনজিৎ সরকারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তিনি কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিদিন শ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে এবং স্ত্রী-সন্তানদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যয় করেছেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছেলের নেশার জন্য অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি চলছিল। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে তার বিবাদ সৃষ্টি হতো বলে অভিযোগ।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে স্ত্রী ও ছেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি একাকী জীবনযাপন করছেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে সনজিৎ সরকার বলেন, “সংসারে ছোটখাটো মান-অভিমান থাকতেই পারে। কিন্তু সেগুলোকে বড় করে দেখলে সমস্যার সমাধান হয় না। আমি সবসময় আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ হিসেবে ভেবেছি। আজ তারা আমার পাশে নেই। তারপরও আমি চাই তারা ফিরে আসুক এবং আমরা আবার একসঙ্গে সুখে-শান্তিতে বসবাস করি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দারও দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে নানা কারণে অশান্তি চলছিল। তবে তাদের মতে, পারিবারিক সমস্যার সমাধান সামাজিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। এলাকাবাসীরা চান, ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পরিবারটি আবার আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।
ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, পারিবারিক কলহ ও ভুল বোঝাবুঝি সময়মতো মিটিয়ে না নিলে তা একটি সুন্দর সংসারকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংলাপের মাধ্যমেই এমন সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।)