তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিদ্রোহী সাংসদরা; দিল্লিতে বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল বিদ্রোহীরা যোগ দিচ্ছেন ত্রিপুরার NCPI-তে!
জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদদের সিদ্ধান্ত। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রায় ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক সূত্রে খবর, দিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল, বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক একটি গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা নতুন দল গঠন না করে ইতিমধ্যেই নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
এনসিপিআই বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি নির্বাচন কমিশনের নথিভুক্ত একটি রাজনৈতিক দল। যদিও এখনও এটি স্বীকৃত জাতীয় বা রাজ্যস্তরের দল নয়। দলের নিবন্ধিত ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার আন্দুল এলাকায়। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি রাজনৈতিক মহলে কিছুটা পরিচিতি লাভ করে। পাশাপাশি অসম ও উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায়ও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং উন্নয়নের রাজনীতিকে সমর্থন করতেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চাইছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছাও রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একসঙ্গে এতজন সাংসদের দলত্যাগের উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন নজর রয়েছে লোকসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। সাংসদদের আবেদন গৃহীত হলে আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।