চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় মাটি ধসের পর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও TSR-এর জওয়ানরা। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক, আহত আরও একজন।
১৩ জুন ২০২৬ তেলিয়ামুড়া:
তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় মাটি ধসের ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও একজন। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
জানা গেছে, কুঞ্জমুড়া এলাকার বাসিন্দা জেমস জমাতিয়া (২০), আশা হরি জমাতিয়া (৩০) এবং অমূল্য ধন জমাতিয়া (৩০) বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় যান। মাটি কাটার সময় আচমকাই বিশাল একটি মাটির স্তূপ ধসে পড়ে তাদের ওপর।
ঘটনা প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। তাদের তৎপরতায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অমূল্য ধন জমাতিয়াকে। পরে তাকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও TSR-এর জওয়ানদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় জেমস জমাতিয়া ও আশা হরি জমাতিয়াকে। তবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও দপ্তরের সদস্যদের উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না এবং জেসিবি মেশিনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল।
এদিকে দুই যুবকের অকালমৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার-পরিজন ও গোটা এলাকা। ঘটনার তদন্ত এবং উদ্ধার অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
