৭৮০ গ্রামের অপরিণত নবজাতককে বাঁচানোর পর আনন্দে চিকিৎসক দল — আইজিএম হাসপাতালের নিওনেটাল ওয়ার্ডে এক অনন্য সাফল্য।
৭৮০ গ্রামের শিশুকে বাঁচালেন চিকিৎসকরা আইজিএম হাসপাতালে সুস্থ জীবন পেল ২৬ সপ্তাহের নবজাতক
আগরতলা, ১২ নভেম্বরঃ
অদম্য প্রচেষ্টা ও চিকিৎসকদের নিবেদিত যত্নে জীবনের জয়গান লিখল এক নবজাতক। মাত্র ৭৮০ গ্রাম ওজনের ২৬ সপ্তাহের একটি কন্যাশিশু, যাকে ধলাই জেলার শিবানী দেববর্মা গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে বাড়িতেই জন্ম দেন, আজ সম্পূর্ণ সুস্থ। গর্ভকালীন সময় পূর্ণ না হওয়ায় শিশুটিকে তৎক্ষণাৎ ধলাই জেলা হাসপাতাল হয়ে আগরতলার আইজিএম হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে শিশুটির ফুসফুসের অপরিপক্কতার কারণে সারফেক্টেন্ট ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং রাখা হয় ভেন্টিলেটরে। ইনফেকশন, জন্ডিস ও প্রচণ্ড রক্তাল্পতার সঙ্গে লড়াই করে শিশুটি চার সপ্তাহ পর আবারও ভেন্টিলেটরে ওঠে। তবুও হাল ছাড়েননি আইজিএম হাসপাতালের নিওনেটাল ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সরা। ডা. বাসুদেব রায় ও ডা. গোপা চ্যাটার্জির তত্ত্বাবধান, নার্সিং অফিসারদের মাতৃসুলভ যত্ন, এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক ডা. কেশব দাসের নিরলস পরিশ্রমে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যায় নবজাতকটি।

শিশুটির বাবা-মায়ের ধৈর্য ও সহযোগিতাও ছিল প্রশংসনীয়। নিয়মিত ভিটামিন ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিক, ব্লাড ট্রান্সফিউশন ও অক্সিজেন থেরাপির মাধ্যমে অবশেষে শিশুটি সুস্থ হয়।১১ নভেম্বর, ৫৫ দিন বয়সে ওজন ১ কেজি অতিক্রম করার পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এমন অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর সফল চিকিৎসা নিঃসন্দেহে এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত। আইজিএম হাসপাতালের প্রথা অনুযায়ী নবজাতকটিকে একটি ছোট চারাগাছ সহ বাড়ি পাঠানো হয়—নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে।
