এক মাস সিয়াম সাধনার পর আগরতলার গেদু মিয়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিদের আলিঙ্গন—ছড়িয়ে পড়ছে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা।
২১ মার্চ ২০২৬, আগরতলা: এক মাসব্যাপী পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার পর খুশির ঈদ উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে আগরতলা শহর। শহরের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় উপাসনালয় গেদু মিয়া মসজিদে এদিন ভোর থেকেই ভিড় জমাতে থাকেন অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই অংশ নেন ঈদের জামাতে। নির্ধারিত সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পবিত্র এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে দেখা যায় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। মুসল্লিরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে “ঈদ মোবারক” জানাতে থাকেন। এই আলিঙ্গন শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে ওঠে। দীর্ঘ এক মাসের সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর এই মিলনমেলা যেন সকলের মাঝে নতুন করে মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেয়।

এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন আব্দুল রহমান সহ বহু মুসল্লি। নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও রাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখার জন্যও প্রার্থনা করা হয়।মসজিদ চত্বরজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের আনন্দ আর প্রবীণদের আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মসজিদে আসেন এবং নামাজ শেষে একসঙ্গে সময় কাটান।

সব মিলিয়ে, আগরতলার গেদু মিয়া মসজিদে এবারের ঈদ উদযাপন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি পরিণত হয় এক বৃহৎ সামাজিক মিলনমেলায়—যেখানে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের অটুট বার্তা।

