
খোয়াই জেলা হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলতার সঙ্গে “জরায়ু সিস্ট” এর জটিল অপারেশন সম্পন্ন করল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা মিলে। এই জটিল অপারেশন করার ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকে এক টাকাও খরচ করতে হয়নি, এই অপারেশনের পুরো খরচ আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই ধরনের সফলতায় মহকুমার মানুষ দারুন খুশি। উল্লেখ্য, বিগত দিনে এই ধরনের জটিল অপারেশন খোয়াই জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার পরও করা যায়নি পরিকাঠামোর সমস্যা এবং চিকিৎসক সংকটের কারণে। এ- প্রসঙ্গে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপার শরদিন্দু রিয়াং জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর হাসপাতালের পরিকাঠামো মান উন্নয়ন করতে শুরু করায় এবং এর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেবার পরই এই ধরনের জটিল অপারেশন গুলো শুরু করা যাচ্ছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই হাসপাতালে অপারেশনের কাজ শুরু করবেন। জেলা হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্ঘ্য মূল্য দেববর্মন জানান, দিনমজুর শ্রমিকের স্ত্রীর পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসেন। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায় ওনার জরায়ুতে সিস্ট রয়েছে। পরে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন এই হাসপাতালেই উনার অপারেশন করবেন একাধিক চিকিৎসকরা মিলে। আজ তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল উনার “জরায়ু সিস্ট” এর জটিল অপারেশন টি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফল অপারেশনের পর রোগীর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, খোয়াই জেলা হাসপাতালে এ ধরনের অপারেশন করা যায় তারা স্বপ্নেও ভাবেননি। দিনমজুর শ্রমিক নৃপেন্দ্র ঘোষ জানান, খোয়াই জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে উনাকে যথাযথ পরামর্শ এবং সাহায্য এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নৃপেন্দ্র বাবু জানান, আয়ুষ্মান কার্ড থাকাতে ওনার এক টাকাও খরচা হয়নি এই জটিল অপারেশনটি করার ক্ষেত্রে। ঠিক একই রকম ভাবে গত ১০ অক্টোবর দুপুরে খোয়াই জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক যুবকের পায়ের ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট পুন:রায় প্রতিস্থাপন করেন রোগীর দেহে। যা এই হাসপাতালের ইতিহাসে আরোও একটি নয়া ইতিহাস তৈরি করলেন হাসপাতালে চিকিৎসকরা। গত এক মাসের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসকরা এ ধরনের জটিল অপারেশন সফলতার সঙ্গে করেছেন মোট চারটি।
