ভাটি অভয়নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে SAANS 25 কর্মসূচির উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন মেয়র দীপক মজুমদার।
আগরতলা, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫:আগরতলা পুর এলাকায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত সার্ভে ও সচেতনতা কর্মসূচিতে বহু বাড়িতে আশা কর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আগরতলার মেয়র দীপক মজুমদার। শনিবার ভাটি অভয়নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে SAANS 25 (Social Awareness and Action to Neutralize Pneumonia Successfully) কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।ভারতজুড়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত SAANS কর্মসূচি পালন করা হয়। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুহার কমানো, দ্রুত সনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং মা–বাবাকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শিশুদের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের অস্বাভাবিক অস্থিরতা ও অবসাদ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি—এ কথা স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান।

অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, “ভারতে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। তাই প্রতিটি মাকে সচেতন হতে হবে, শিশুদের সময়মতো টিকা দিতে হবে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা করাতে হবে।”তিনি আরও বলেন, আশা কর্মীরা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাদের তথ্য সংগ্রহ, টিকাকরণ প্রচার, সার্ভে ও সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু আগরতলা শহরের অনেক “শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল পরিবারের লোকেরা আশা কর্মীদের সহযোগিতা করেন না” বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।মেয়রের বক্তব্য—“যখন আশা কর্মীরা নিগম এলাকার শিক্ষিত নাগরিকদের বাড়িতে স্বাস্থ্য সার্ভে করতে যান, তখন অনেকেই বিরক্ত হন বা দরজা খুলতে চান না। তারা মনে করেন সরকারি পরিষেবার দরকার নেই, কারণ তারা উন্নত বেসরকারি পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবে। এই মনোভাব সঠিক নয় এবং সমাজের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।”তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি নিগম এলাকায় কোনো আশা কর্মী সার্ভে করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন, তবে তারা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে জানালে সংস্থা ও পুর কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে।মেয়র সকল শহরবাসীকে সার্ভে কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং শিশুদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমগ্র সমাজকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেন।
