কৈলাসহরে রশি দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্তে ভিড় জমায় স্থানীয়রা
কৈলাসহর শহরে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। শহরের মোহনপুর এলাকার এক যুবক গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক এবং শোকের ছায়া। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কৈলাসহর থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার একুশ নভেম্বর সকাল প্রায় নয়টা নাগাদ কৈলাসহর শহরের মাছবাজারের ব্যবসায়ীরা ফোন করে থানাকে জানান, মাছবাজার সংলগ্ন সবজিবাজারের পিছনে এক যুবক ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেই দেখতে পায় মোহনপুর এলাকার ৩০ বছর বয়সী সুজিত শব্দকর গলায় রশি দিয়ে ঝুলে রয়েছেন। মৃত সুজিত শব্দকর পেশায় একজন ই-রিক্সা চালক। তাঁর পরিবারে স্ত্রী এবং চার বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।কৈলাসহর থানার পুলিশ অফিসার কিঙ্কর পাল জানান, মৃত সুজিত শব্দকর নেশায় আসক্ত ছিলেন। প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় চিৎকার-চেচামেচি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিঙ্কর পাল আরও জানান, বৃহস্পতিবার কুড়ি নভেম্বর সন্ধ্যায়ও একই কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

কিঙ্কর পাল (পুলিশ অফিসার) জানান যে “এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাকে আটক করেছিলাম। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান।”মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে দাবি, থানায় আটক হয়ে ফেরার পর অভিমানের বশে সুজিত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পরিবার আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং সবসময় নিজের সঙ্গে রশি নিয়ে চলাফেরা করতেন। পরিবারকে বারবার বলতেন — “আমাকে বাঁচতে দাও।”মৃত সুজিত শব্দকর কৈলাসহর পুরপরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত গিরিন্দ্র শব্দকরের ছেলে। সহজ-সরল এবং নিরীহ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে জানান প্রতিবেশীরা।পুলিশ সুজিতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট পরে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
