অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তদন্তে বেঙ্গালুরু পুলিশ — শোকস্তব্ধ পরিবার ও এলাকা
নিজস্ব সংবাদদাতা:বেঙ্গালুরুতে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে প্রাণ হারালেন ত্রিপুরার দুই তরুণ—কমলপুরের অয়ন সূত্রধর (২২) এবং কৈলাশহরের অনিকেত দেব (ডাকা নাম মনা)। সোমবার রাতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার হয় বেঙ্গালুরুর একটি ভাড়া বাড়ি থেকে। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুই এলাকায়। শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে ও প্রতিবেশীদের মুখে।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দিয়েছিলেন অয়ন ও অনিকেত। অয়ন সূত্রধর ছিলেন মধ্যপাড়ার বাসিন্দা, পিতা অসিত সূত্রধর। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের রাত অর্থাৎ ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অয়ন। কথোপকথনের সময় কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি।কিন্তু উত্তরদিন ভোর থেকে অয়নের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এরপর সহকর্মীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তারা অয়ন এবং অনিকেতের বাসস্থানে পৌঁছে দু’জনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার সময় ঘরের দরজা খোলাই ছিল বলে জানা গেছে।

মৃত অনিকেত দেব কৈলাশহর পুরপরিষদের কাঁচেরঘাট এলাকার বাসিন্দা। দুই তরুণের মৃত্যু কীভাবে ঘটল, তা এখনো রহস্যে মোড়া। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ দুটি বেঙ্গালুরুর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না, জানিয়েছে পুলিশ।অস্বাভাবিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। টানা কয়েক বছর পরিবারের বাইরে থেকে কর্মজীবনের লড়াই চালিয়ে যাওয়া দুই তরুণের এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— একই সময় দুই তরুণের মৃত্যু কীভাবে ঘটলো? নেপথ্যে কি কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র জড়িত?তথ্য অনুযায়ী, মৃতদেহ দুটি দ্রুত রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য ত্রিপুরা সরকার সহায়তা করছে।পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
